আজকের স্বর্ণের দাম: ৩০ নভেম্বর ২০২৫ – বাংলাদেশে সোনার সর্বশেষ মূল্য তালিকা

1762135684 122ca2673d6558d45f7c9ca5c4d96760
বাংলাদেশের স্বর্ণের বাজার সবসময়ই ক্রেতাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। বিশেষ করে যারা গহনা কিনতে চান বা বিনিয়োগের জন্য সোনা ক্রয় করতে আগ্রহী, তাদের জন্য প্রতিদিনের সোনার দাম জানা অত্যন্ত জরুরি। ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করেছে যা সকল ক্রেতাদের জন্য প্রযোজ্য।

বর্তমান স্বর্ণের দাম – ৩০ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতিনিয়ত ওঠানামা করে। এর প্রভাব পড়ে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন ক্যারেটের সোনার দাম ভিন্ন ভিন্ন। সাধারণত বাংলাদেশে ২২ ক্যারেট, ২১ ক্যারেট, ১৮ ক্যারেট এবং ট্র্যাডিশনাল সোনা বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিটি ক্যারেটের দাম আলাদা কারণ এতে সোনার বিশুদ্ধতার মাত্রা ভিন্ন থাকে।

ক্যারেট অনুযায়ী স্বর্ণের মূল্য তালিকা

স্বর্ণের ধরন (Gold Type) প্রতি ভরি দাম (Per Bhori Price) প্রতি গ্রাম দাম (Per Gram Price)
২২ ক্যারেট সোনা (22 Carat Gold) ১,৪৪,২৮২ টাকা ১২,৩৬৭ টাকা
২১ ক্যারেট সোনা (21 Carat Gold) ১,৩৭,৭৬৯ টাকা ১১,৮০৯ টাকা
১৮ ক্যারেট সোনা (18 Carat Gold) ১,১৮,০৮৮ টাকা ১০,১২২ টাকা
ট্র্যাডিশনাল সোনা (Traditional Gold) ১,০৪,৯১১ টাকা ৮,৯৯৩ টাকা

২২ ক্যারেট সোনা কেন সবচেয়ে জনপ্রিয়?

২২ ক্যারেট সোনা বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন। এই সোনায় ৯১.৬৭% বিশুদ্ধ স্বর্ণ থাকে এবং বাকি অংশে তামা, রূপা বা অন্যান্য ধাতু মিশ্রিত থাকে। এটি গহনা তৈরির জন্য আদর্শ কারণ এটি যথেষ্ট মজবুত এবং দীর্ঘস্থায়ী। বিয়ে, অলংকার কেনা বা বিশেষ অনুষ্ঠানে এই ক্যারেটের সোনা বেশি ব্যবহার হয়। বর্তমানে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৪৪ হাজার ২৮২ টাকা এবং প্রতি গ্রামের দাম ১২,৩৬৭ টাকা

২১ ক্যারেট ও অন্যান্য সোনার বৈশিষ্ট্য

২১ ক্যারেট সোনায় ৮৭.৫% বিশুদ্ধ সোনা থাকে। এটি সাধারণত মধ্যম মানের গহনার জন্য ব্যবহৃত হয়। যারা একটু কম দামে ভালো মানের সোনার অলংকার কিনতে চান, তাদের জন্য ২১ ক্যারেট উপযুক্ত। এর প্রতি ভরির দাম ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৬৯ টাকা

১৮ ক্যারেট সোনা তুলনামূলকভাবে কম বিশুদ্ধ, যেখানে ৭৫% সোনা থাকে। এটি হালকা গহনা এবং ফ্যাশন জুয়েলারির জন্য জনপ্রিয়। তরুণ প্রজন্ম সাধারণত এই ক্যারেটের চেইন, ব্রেসলেট এবং আধুনিক ডিজাইনের অলংকার পছন্দ করে। এর দাম প্রতি ভরি ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৮ টাকা

ট্র্যাডিশনাল সোনা সবচেয়ে কম দামের। এতে সোনার পরিমাণ কম থাকে এবং এটি সাধারণত পুরনো ঐতিহ্যবাহী গহনা তৈরিতে ব্যবহার হয়। প্রতি ভরি দাম ১ লাখ ৪ হাজার ৯১১ টাকা

স্বর্ণের দাম কীভাবে নির্ধারণ হয়?

বাংলাদেশে স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। এই সংস্থা আন্তর্জাতিক বাজারের সোনার দাম, ডলারের বিনিময় মূল্য এবং স্থানীয় চাহিদা-সরবরাহের ভিত্তিতে প্রতিদিন বা সপ্তাহান্তে দাম নির্ধারণ করে। বিশ্ববাজারে যখন Gold Price বাড়ে, তখন দেশেও দাম বৃদ্ধি পায়। অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিও সোনার দামে প্রভাব ফেলে।

স্বর্ণ কেনার আগে যা জানা জরুরি

সোনা কেনার সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা উচিত। প্রথমত, হলমার্ক যাচাই করুন। হলমার্কযুক্ত সোনা মানে সেটি সরকার অনুমোদিত এবং বিশুদ্ধ। দ্বিতীয়ত, বিশ্বস্ত জুয়েলারি শপ থেকে কিনুন। তৃতীয়ত, ক্রয়ের সময় সঠিক রসিদ এবং ওজন নিশ্চিত করুন। অনেক সময় দোকানিরা মেকিং চার্জ বা কারিগরি খরচ আলাদা নেয়, এটি আগে জেনে নিন।

এছাড়া, যারা Investment এর জন্য সোনা কিনছেন, তাদের জন্য গোল্ড বার বা কয়েন ভালো অপশন। গহনায় মেকিং চার্জ বেশি থাকে, কিন্তু বার বা কয়েনে সেটি নেই। তাই বিক্রির সময় ভালো দাম পাওয়া যায়।

স্বর্ণের বাজারে সাম্প্রতিক প্রবণতা

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বাংলাদেশে সোনার দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যদি কোনো বড় পরিবর্তন আসে, তাহলে স্থানীয় বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। বিশ্বব্যাপী Economic Uncertainty এবং ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা Safe Haven হিসেবে সোনায় বিনিয়োগ করছেন। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিদিন স্বর্ণের দাম কোথায় জানবেন?

প্রতিদিনের আপডেট সোনার দাম জানতে আপনি বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। এছাড়া বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল, অর্থনীতি সংক্রান্ত ওয়েবসাইট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায়ও দৈনিক দাম প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় জুয়েলারি শপগুলোতেও প্রতিদিনের রেট লেখা থাকে। ক্রেতাদের উচিত কেনার আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে দাম তুলনা করে দেখা।

স্বর্ণ বিক্রির সময় যা মনে রাখবেন

অনেকে পুরনো সোনা বিক্রি করে নতুন গহনা কিনতে চান। এক্ষেত্রে মনে রাখবেন, বিক্রির দাম সাধারণত ক্রয় মূল্যের চেয়ে কম হয়। কারণ মেকিং চার্জ ফেরত পাওয়া যায় না। তবে হলমার্কযুক্ত সোনা হলে ভালো দাম পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বিশ্বস্ত জুয়েলার্সরা সাধারণত সঠিক ওজন দিয়ে ন্যায্য মূল্য দেয়। তাই সবসময় পরিচিত এবং বিশ্বস্ত দোকানে বিক্রি করুন।

বিশেষ পরামর্শ ও সতর্কতা

সোনা কেনাবেচার সময় সাবধান থাকা অত্যন্ত জরুরি। নকল বা ভেজাল সোনা থেকে দূরে থাকতে হলে সবসময় বিখ্যাত ব্র্যান্ড এবং সরকার অনুমোদিত দোকান থেকে কিনুন। যেকোনো সন্দেহ হলে Hallmark Certificate চেক করুন এবং প্রয়োজনে অন্য দোকানে ওজন যাচাই করে নিন। মনে রাখবেন, সোনা একটি দীর্ঘমেয়াদী Asset, তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে স্বর্ণের দাম সম্পর্কে এই সম্পূর্ণ তথ্য আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে। বাংলাদেশে সোনা শুধু গহনা নয়, এটি একটি নিরাপদ বিনিয়োগ মাধ্যমও। দাম যাচাই করে, বিশ্বস্ত স্থান থেকে কিনুন এবং সঠিক তথ্য জেনে সিদ্ধান্ত নিন। সোনার বাজার নিয়মিত পরিবর্তন হয়, তাই আপডেট থাকতে প্রতিদিনের দাম জানা জরুরি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *