বিদেশে যেতে চান? প্রবাসী অ্যাপস (Ami Probashi) ব্যবহার করে ঘরে বসেই আবেদন করুন

1000190170 optimized 500
বিদেশে চাকরির স্বপ্ন দেখেন? কিন্তু দালাল, অতিরিক্ত টাকা এবং হয়রানির ভয়ে পিছিয়ে আছেন? তাহলে এই আর্টিকেলটি শুধুমাত্র আপনার জন্য! বাংলাদেশ সরকার এখন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে যেখানে আপনি ঘরে বসেই বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই সেবাটির নাম আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপ। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা জানবো কীভাবে এই অ্যাপ আপনার বিদেশ যাওয়ার পথকে সহজ এবং নিরাপদ করে তুলবে।

আমি প্রবাসী অ্যাপ কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ?

আমি প্রবাসী (Ami Probashi) হলো বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক চালু করা একটি অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন এবং ওয়েব পোর্টাল। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে তাদের জন্য যারা বিদেশে কাজের জন্য যেতে চান এবং যারা ইতিমধ্যে প্রবাসে আছেন।

আগে বিদেশে যেতে হলে বিভিন্ন দালাল এবং মধ্যস্থতাকারীদের কাছে যেতে হতো। তারা অতিরিক্ত টাকা নিতো এবং অনেক সময় মানুষকে প্রতারণা করতো। কিন্তু এখন Ami Probashi app এর মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করা যায়। এতে করে আপনার সময়, টাকা এবং ভোগান্তি তিনটিই বাঁচে।

কেন প্রবাসী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করবেন?

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার যখন এই অ্যাপটি চালু করেছে, তখন মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসী খাতে থাকা দুর্নীতি ও হয়রানি কমানো। আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে ডিজিটালাইজেশন এর ফলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

এই অ্যাপের মাধ্যমে এখন প্রবাসীরা সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। কোনো মধ্যস্থতাকারীর প্রয়োজন নেই। আপনি যদি বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে চান, তাহলে শুধুমাত্র আপনার মোবাইল ফোন এবং জাতীয় পরিচয়পত্র থাকলেই যথেষ্ট।

আমি প্রবাসী অ্যাপ এর সুবিধা কী কী?

এই অ্যাপটি ব্যবহার করলে আপনি অনেক ধরনের সুবিধা পাবেন। নিচে একটি টেবিলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাগুলো তুলে ধরা হলো:

সুবিধা বিস্তারিত
সম্পূর্ণ অনলাইন আবেদন ঘরে বসে বিদেশে কাজের জন্য আবেদন করা যায়, কোনো অফিসে যাওয়ার প্রয়োজন নেই
দালালমুক্ত সেবা মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি সরকারি প্ল্যাটফর্মে আবেদন করা যায়
দুর্নীতি ও অতিরিক্ত খরচ কমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার কারণে কেউ বেশি টাকা নিতে পারে না
আবেদন ট্র্যাকিং যেকোনো সময় আপনার আবেদনের অবস্থা দেখতে পারবেন
সরকারি নোটিশ ও আপডেট সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এবং নোটিশ এক জায়গায় পাওয়া যায়
প্রশিক্ষণ সুবিধা Pre-departure Orientation (PDO) এবং স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণের তথ্য
BMET কার্ড ডাউনলোড ডিজিটালভাবে BMET কার্ড এবং সার্টিফিকেট ডাউনলোড করা যায়
স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা প্রবাসীদের জন্য দ্রুত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুবিধা
ভোটাধিকার নিবন্ধিত প্রবাসীরা দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন
সময় ও খরচ সাশ্রয় সব কিছু ডিজিটাল হওয়ায় সময় এবং যাতায়াত খরচ বাঁচে

আমি প্রবাসী অ্যাপ ডাউনলোড করার নিয়ম

অ্যাপটি ডাউনলোড করা অত্যন্ত সহজ। আপনি যদি Android মোবাইল ব্যবহার করেন, তাহলে Google Play Store এ গিয়ে “আমি প্রবাসী” বা “Ami Probashi” লিখে সার্চ করুন। অথবা সরাসরি Google Play Store থেকে ডাউনলোড করতে পারেন।

আর যদি আপনি iPhone ব্যবহার করেন, তাহলে App Store থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করতে পারবেন। ডাউনলোড করার সময় অবশ্যই নিশ্চিত করুন যে অ্যাপটি সরকারি ডেভেলপার কর্তৃক প্রকাশিত। এতে আপনার ব্যক্তিगत তথ্য সুরক্ষিত থাকবে এবং কোনো ফেক অ্যাপ ডাউনলোড হওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।

অ্যাপটি ইনস্টল করার পর আপনাকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের জন্য আপনার মোবাইল নম্বর অথবা ইমেইল আইডি ব্যবহার করতে পারবেন।

Ami Probashi app registration প্রক্রিয়া

অ্যাপে রেজিস্ট্রেশন করা খুবই সহজ। প্রথমে অ্যাপটি ওপেন করুন এবং “Sign Up” বা “রেজিস্টার করুন” বাটনে ক্লিক করুন। এরপর আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে একটি OTP কোড পাবেন। সেই কোড দিয়ে আপনার মোবাইল নম্বর ভেরিফাই করুন।

তারপর আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করুন। সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর “Submit” বাটনে ক্লিক করুন। এভাবেই আপনার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হবে।

রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনি অ্যাপের সব ধরনের সেবা ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন, ট্রেনিং সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে পারবেন এবং আরো অনেক সুবিধা পাবেন।

আমি প্রবাসী ওয়েবসাইট এবং অনলাইন পোর্টাল

শুধু মোবাইল অ্যাপ নয়, আপনি চাইলে কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকেও সেবা নিতে পারবেন। এর জন্য আমি প্রবাসী ওয়েবসাইট ভিজিট করুন। এই ওয়েবসাইটে আপনি অ্যাপের সব ধরনের সুবিধা পাবেন।

ওয়েবসাইটটি খুবই ব্যবহারবান্ধব এবং সেখানে বাংলা ও ইংরেজি দুটি ভাষায়ই তথ্য দেওয়া আছে। আপনি যদি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারে অসুবিধা বোধ করেন, তাহলে ওয়েবসাইট থেকে সহজেই কাজ করতে পারবেন।

প্রবাসী কল্যাণ সেবা এবং ডিজিটাল সুবিধা

এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসীরা শুধু বিদেশে যাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন না, বরং আরো অনেক ধরনের সেবা পাচ্ছেন। যেমন – স্বাস্থ্য বীমা, আইনি সহায়তা, পরিবার কল্যাণ, এবং দুর্ঘটনা বীমা সংক্রান্ত তথ্য।

প্রবাসে থাকা অবস্থায় যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে অ্যাপের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা চাইতে পারবেন। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক এর মাধ্যমে টাকা পাঠানো এবং বিভিন্ন আর্থিক সেবাও পাওয়া যায়।

PDO (Pre-departure Orientation) এবং প্রশিক্ষণ সার্টিফিকেট

বিদেশে যাওয়ার আগে আপনাকে PDO বা Pre-departure Orientation প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এটি একটি বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ যেখানে আপনাকে বিদেশে কাজ করার নিয়মকানুন, অধিকার এবং নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়।

আমি প্রবাসী অ্যাপ এর মাধ্যমে আপনি সহজেই PDO বুকিং করতে পারবেন। প্রশিক্ষণ শেষ হলে আপনি একটি ডিজিটাল QR Code সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট আপনি অ্যাপ থেকে যেকোনো সময় ডাউনলোড করতে পারবেন।

এছাড়াও আমি প্রবাসী ট্রেনিং সার্টিফিকেট অনলাইন চেক করার সুবিধাও রয়েছে। আপনি যদি ভুলে গিয়ে থাকেন যে আপনার সার্টিফিকেট আছে কিনা, তাহলে অ্যাপে লগইন করে সহজেই যাচাই করতে পারবেন।

বিদেশে চাকরির আবেদন প্রক্রিয়া

এখন আসুন জানি কীভাবে আপনি আমি প্রবাসী অ্যাপ ব্যবহার করে বিদেশে চাকরির জন্য আবেদন করবেন। প্রথমে অ্যাপে লগইন করুন এবং “জব সার্চ” বা “Job Application” অপশনে ক্লিক করুন।

সেখানে বিভিন্ন দেশে কাজের সুযোগ দেখতে পাবেন। আপনার পছন্দের দেশ এবং কাজের ধরন নির্বাচন করুন। তারপর আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড করুন।

সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করার পর আবেদন জমা দিন। আপনার আবেদনটি সরকারি কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে এবং আপনাকে পরবর্তী ধাপ সম্পর্কে জানানো হবে। আবেদনের অবস্থা জানতে আপনি “Track Application” অপশন ব্যবহার করতে পারবেন।

Ami Probashi login এবং অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা

একবার রেজিস্ট্রেশন করার পর আপনি যেকোনো সময় অ্যাপে লগইন করতে পারবেন। শুধু আপনার মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন।

যদি পাসওয়ার্ড ভুলে যান, তাহলে “Forgot Password” অপশন ব্যবহার করে নতুন পাসওয়ার্ড সেট করতে পারবেন। আপনার অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন এবং কাউকে শেয়ার করবেন না।

আমি প্রবাসী BMET কার্ড ডাউনলোড

বিদেশে যাওয়ার জন্য BMET (Bureau of Manpower, Employment and Training) কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কার্ড ছাড়া আপনি বৈধভাবে বিদেশে কাজ করতে পারবেন না।

আগে এই কার্ড পেতে BMET অফিসে যেতে হতো এবং অনেক সময় লাগতো। কিন্তু এখন আমি প্রবাসী অ্যাপ থেকে আপনি সহজেই ডিজিটাল BMET কার্ড ডাউনলোড করতে পারবেন।

এর জন্য অ্যাপে লগইন করে “My Documents” বা “আমার ডকুমেন্ট” অপশনে যান। সেখানে আপনার BMET কার্ড পাবেন। কার্ডটি PDF ফরম্যাটে ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন।

অনলাইন মাইগ্রেশন সিস্টেম এবং স্বচ্ছতা

বাংলাদেশ সরকার অনলাইন মাইগ্রেশন সিস্টেম চালু করে প্রবাসী খাতকে আরো স্বচ্ছ এবং দায়বদ্ধ করেছে। এই সিস্টেমে সব ধরনের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং যেকোনো সময় যাচাই করা যায়।

এর ফলে জাল নিয়োগকর্তা এবং প্রতারকদের চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে কাজের জন্য যাচ্ছেন, সেটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কিনা তা অ্যাপ থেকে যাচাই করতে পারবেন।

প্রবাসী ভোটাধিকার এবং নাগরিক সেবা

এই অ্যাপের একটি বিশেষ সুবিধা হলো প্রবাসীরা এখন দেশের নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। যারা ভোটার তালিকায় নিবন্ধিত আছেন, তারা বিদেশে থেকেই তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

এছাড়াও জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য নাগরিক সেবাও এই অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যায়। এভাবে প্রবাসীরা দেশের সাথে সংযুক্ত থাকতে পারছেন।

বিদেশ গমন খরচ এবং স্বচ্ছতা

একটি বড় সমস্যা ছিল বিদেশে যাওয়ার খরচ নিয়ে অস্বচ্ছতা। অনেক দালাল অতিরিক্ত টাকা নিতো। কিন্তু আমি প্রবাসী অ্যাপ এ প্রতিটি দেশে যাওয়ার জন্য সরকার নির্ধারিত খরচ উল্লেখ করা আছে।

আপনি অ্যাপে দেখতে পাবেন কোন দেশে যেতে কত টাকা খরচ হবে। এতে কেউ আপনাকে বেশি টাকা দাবি করতে পারবে না। সব কিছু নিয়ন্ত্রিত এবং স্বচ্ছ

প্রবাসী সহায়তা সেবা এবং জরুরি যোগাযোগ

বিদেশে থাকা অবস্থায় যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে আমি প্রবাসী অ্যাপ এর মাধ্যমে সরকারের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন। অ্যাপে হেল্পলাইন নম্বর এবং ইমেইল ঠিকানা দেওয়া আছে।

এছাড়াও বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস এবং কনস্যুলেটের যোগাযোগের তথ্য পাবেন। জরুরি পরিস্থিতিতে এই তথ্য আপনার অনেক কাজে আসবে।

কীভাবে নিরাপদভাবে বিদেশে যাবেন?

বিদেশে যাওয়ার সময় কিছু বিষয় অবশ্যই মনে রাখতে হবে। প্রথমত, শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সি এর মাধ্যমে যাবেন। আমি প্রবাসী অ্যাপ এ অনুমোদিত এজেন্সিদের তালিকা দেওয়া আছে।

দ্বিতীয়ত, বিদেশে যাওয়ার আগে PDO প্রশিক্ষণ অবশ্যই নিন। এই প্রশিক্ষণে আপনাকে বিদেশে নিরাপদ থাকার উপায় এবং আপনার অধিকার সম্পর্কে শিক্ষা দেওয়া হবে।

তৃতীয়ত, সব ধরনের চুক্তিপত্র ভালোভাবে পড়ে বুঝে স্বাক্ষর করুন। যদি কোনো কিছু বুঝতে না পারেন, তাহলে অভিজ্ঞ কারো সাহায্য নিন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ এবং প্রবাসী কল্যাণ

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আমি প্রবাসী অ্যাপ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী খাতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রবাসীরা এখন আর আগের মতো অসহায় নন। তারা এখন সরকারের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারছেন এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে পারছেন। এটি বাংলাদেশের প্রবাসী খাতের জন্য একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

১. আমি প্রবাসী অ্যাপ কি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে?

হ্যাঁ, আমি প্রবাসী অ্যাপ ডাউনলোড এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। তবে কিছু সরকারি ফি যেমন BMET রেজিস্ট্রেশন ফি আপনাকে দিতে হতে পারে, যা সরকার নির্ধারিত।

২. বিদেশে থেকেও কি এই অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে?

অবশ্যই! প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও এই অ্যাপ ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি সেবা নিতে পারবেন। শুধুমাত্র ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই যথেষ্ট।

৩. আমি প্রবাসী অ্যাপে কীভাবে আবেদন স্ট্যাটাস চেক করবো?

অ্যাপে লগইন করার পর “My Applications” বা “আমার আবেদন” অপশনে ক্লিক করুন। সেখানে আপনার সব আবেদনের বর্তমান অবস্থা দেখতে পাবেন।

৪. PDO প্রশিক্ষণ কি বাধ্যতামূলক?

হ্যাঁ, বিদেশে যাওয়ার আগে Pre-departure Orientation (PDO) প্রশিক্ষণ নেওয়া বাধ্যতামূলক। এই প্রশিক্ষণ আপনাকে বিদেশে নিরাপদ থাকতে এবং আপনার অধিকার সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে।

৫. আমি প্রবাসী BMET কার্ড কতদিনে পাওয়া যায়?

আবেদন এবং প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট জমা দেওয়ার পর সাধারণত ৭ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে BMET কার্ড পাওয়া যায়। আপনি অ্যাপ থেকে ডিজিটাল কপি ডাউনলোড করতে পারবেন।

৬. যদি অ্যাপ ব্যবহারে কোনো সমস্যা হয় তাহলে কী করবো?

অ্যাপে “Help & Support” অপশন আছে যেখানে আপনি আপনার সমস্যা জানাতে পারবেন। এছাড়াও হেল্পলাইন নম্বর এ কল করে সহায়তা নিতে পারবেন।

৭. এই অ্যাপ কি সব ধরনের মোবাইলে কাজ করবে?

হ্যাঁ, অ্যাপটি Android এবং iOS দুটি প্ল্যাটফর্মেই পাওয়া যায়। এছাড়াও কম্পিউটার থেকে ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করতে পারবেন।

৮. আমি প্রবাসী অ্যাপ দিয়ে কোন কোন দেশে যাওয়া যায়?

বাংলাদেশ সরকার যেসব দেশে শ্রমিক পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে, সেসব দেশে এই অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করা যায়। অ্যাপে সব দেশের তালিকা এবং কাজের ধরন উল্লেখ করা আছে।

উপসংহার

বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন এখন আর দুর্গম নয়। আমি প্রবাসী (Ami Probashi) অ্যাপ এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার প্রবাসীদের জন্য একটি নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং দক্ষ প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আপনি ঘরে বসেই বিদেশে কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন, দালালের হাত থেকে বাঁচতে পারবেন এবং আপনার সময় ও টাকা দুটোই সাশ্রয় করতে পারবেন।

প্রবাসী খাতে দুর্নীতি ও হয়রানি কমাতে এই অ্যাপ অসামান্য ভূমিকা রাখছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে এটি একটি মাইলফলক। আপনি যদি বিদেশে যেতে চান, তাহলে আজই আমি প্রবাসী অ্যাপ ডাউনলোড করুন এবং আপনার প্রবাস যাত্রা শুরু করুন নিরাপদ এবং সঠিক উপায়ে।

মনে রাখবেন, সরকারি এই ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করলে আপনার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং আপনি একজন দায়িত্বশীল প্রবাসী হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারবেন। বিদেশে সফল হোক আপনার জীবন!

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *